জাপানে বয়স্কদের মাঝে চাহিদা বাড়ায় খেলনা বাজারে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটিতে অনেকেই শখ হিসেবে খেলনাকে সাশ্রয়ী পণ্য বিবেচনা করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করছেন। সব মিলিয়ে এশিয়ার অন্যতম এ অর্থনীতিতে জন্মহার কমলেও খেলনা খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জাপান টয় অ্যাসোসিয়েশন। খবর কিয়োদো।
২০২৪ অর্থবছরে জাপানের খেলনা বাজার আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছেছে। টয় অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, গত ১০ বছরে দেশটির খেলনা বাজার ৩৬ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে। এতে মূল প্রভাবকের ভূমিকায় রয়েছে ট্রেডিং কার্ড ও জনপ্রিয় চরিত্রভিত্তিক পণ্য।
হাই-টেক খেলনাও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অরিজিনাল তামাগোচি হ্যান্ডহেল্ড ভিডিও গেম ও স্টাফড অ্যানিমেল, যা জাপানি ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকদের মধ্যেও জনপ্রিয়।
অর্থনীতিবিদ সাটসুকি কিমুরা বলেছেন, ‘খেলনা শুধু শিশুদের জন্য নয়, এখন একে প্রাপ্তবয়স্কদের শখ এবং নিজেকে প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ধরা হচ্ছে।’
সরকারি তথ্যানুযায়ী, যেসব পরিবারের কোনো সন্তান নেই, তাদের খেলনা বাবদ খরচ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে তাদের গড় খরচ ৩ দশমিক ৫ গুণ বেড়ে ১৪ হাজার ৪৯৮ ইয়েনে পৌঁছায়। এটি এক বা একাধিক সন্তানসহ পরিবারের গড় খরচ ১২ হাজার ৩৬৭ ইয়েনের তুলনায় বেশি।
সাটসুকি কিমুরা বলেন, ‘ক্যাপসুল খেলনা ও ট্রেডিং কার্ড প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, কারণ অন্যান্য বিনোদন খরচও বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি শুধু পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য নয়, ব্যবহারকারীরা তাদের কেনা খেলনার ছবি শেয়ার করেও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রাপ্তবয়স্ক খেলনার ক্রেতা সংখ্যা বাড়ায় জাপানের এ শিল্প স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো সম্প্রসারণ হবে।